স্টাফ রিপোর্টার: শাহজাহান আকন্দ
ওয়ালটন ও মার্সেল কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য প্রতারণা ও ডিলারদের হয়রানির অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সারা বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীগণ, শনিবার দুপুরে শাহবাগ জাতীয় শহীদ মিনারে এই সমাবেশের আয়োজন করেন ‘ওয়ালটন ও মার্সেল ডিস্ট্রিবিউটর ক্ষতিগ্রস্ত ডিলার ঐক্য পরিষদ’।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মসরত উল্লাহ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (BEBA)–এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল কাশেম খোকন।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ–অভিযোগ তুলে ধরেন বক্তারা
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কোম্পানির বিভিন্ন চুক্তি ও নীতি বাস্তবায়নে অসঙ্গতি, কমিশন প্রদান প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কমিশনের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওয়ালটন কোম্পানি এই সকল ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে, কমিশনের সঠিক হিসাব চাওয়ায় অনেক ডিলারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তাদের এই দুর্নীতি এবং জুলুমের শিকার হয়ে ডিলাররা গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে গেছে অধিকাংশ ব্যবসায়ীগণ। ডিলারদের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার নামে বারবার সমাধান করার জন্য বসে সমঝোতা করার কথা বলেও তারা কোন সমাধান দিচ্ছে না শুধু কাল ক্ষেপণ করছে। তাই দেশবাসীর কাছে এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীগণ তাদের আর্তনাদ জানানোর জন্য প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছেন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী—
একতরফা চুক্তি পরিবর্তন,
অনাদায়ী কমিশন পরিশোধে বিলম্ব,
ডিস্ট্রিবিউটরদের ক্ষতি পূরণ দেয়ার কথা বলেও কালক্ষেপণ।
এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি।
এসব কারণে ডিলাররা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সংকটে আছেন।
বক্তারা দাবি করেন, বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও আলোচনার পরও প্রতিশ্রুত পুনর্বাসন বা কমিশন ফেরত কার্যকর হয়নি। এতে অনেক ডিস্ট্রিবিউটর ব্যবসা হারিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত অবস্থায় পড়েছেন।
ব্যবসায়ীদের চার দফা দাবি
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চারটি মূল দাবির কথা তুলে ধরেন—
1️⃣ ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের অবিলম্বে পুনর্বাসন।
2️⃣ সব অন্যায় বা একতরফা চুক্তি ও ডিড বাতিল বা সংশোধন।
3️⃣ ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সমতাপূর্ণ কমিশন ব্যবস্থা প্রণয়ন।
4️⃣ মামলা–হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ থেকে মুক্তি।
সংগঠনের আহ্বায়ক মসরত উল্লাহ বলেন,
“আমরা বছরের পর বছর নীতিগত অসঙ্গতির শিকার হচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের টিকে থাকার মতো পরিবেশ তৈরি করা এখন জরুরি।”
প্রধান অতিথি আবুল কাশেম খোকন বলেন,
“ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে কোম্পানিগুলোকে ডিলারবান্ধব নীতি ও স্বচ্ছ কমিশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। আমরা ন্যায্য দাবিতে ব্যবসায়ীদের পাশে আছি।”
সর্বস্তরের ডিলারদের অংশগ্রহণ
সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। তারা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।